হারিয়ে যাচ্ছে চড়ুই

প্রকাশিত: ১৪ অক্টোবর, ২০১৮ ০২:৩৪:৫১ || পরিবর্তিত: ১৪ অক্টোবর, ২০১৮ ০২:৩৪:৫১

আমাদের চারপাশের পরিবেশে বিভিন্ন প্রজাতির ছোট-বড় অনেক প্রজাতির পাখি আমরা লক্ষ করি। তবে আশে-পাশে সবচেয়ে বেশী যে পাখিটি উড়োউড়ি করে সেটি হচ্ছে চড়ুই। চড়ুই পাখি আকারে অনেক ছোট একটি পাখি।এদের গায়ের রং খয়েরি। এরা মানুষের কাছাকাছি থাকতে খুব ভালোবাসে।এরা বাড়ির আনাচে-কানাচে,দেয়াল,কাঠ,বাঁশ,দালান ইত্যাদির ফাঁকফোকরে বাঁসা বেধে থাকতে পছন্দ করে।

 চাউলের ‍কুঁড়ো এদের সবচেয়ে পছন্দের খাবার। এছাড়া্ও ছোট-ছোট,পোকামাকড়,সরিষা দানা ইত্যাদি খেতে ভালোবাসে এরা দলবেঁধে বিচরণ করতে ভালোবাসে।এবং আহারের পর একসাথে বসে কিচির-মিচির শব্দে চারিপাশ মুখোরিত করে তোলে।

কিন্ত পরিতাপের বিষয়,বর্তমান সময়ে এই চড়ুই পাখিদের আর আগের মত যত্রতত্র ঝাঁকবেঁধে থাকতে দেখা যায় না। আগের মত আর বাড়ির আশে-পাশে,যেখানে-সেখানে বাঁসা বাঁধতে দেখা যায় না। সন্ধ্যেবেলা তাদের কিচির-মিচির শব্দ শুনতে পাওয়া যায় না।

ব্যাপকভাবে বন উজাড় এবং পরিবেশ বিপর্যয়ের প্রভাবে এরা মারাত্নকভাবে হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে। এরা বাঁসা বাঁধার মত উপযুক্ত জায়গা পাচ্ছে না।কেউ এদের আদর করে একটু ‍ভাঙ্গা চালের কুঁড়ো খেতে দেয় না। ক্ষুধার জ্বালায় সারাদিন এ বাড়ি থেকে ও বাড়ি ছুটোছুটি করে বেড়ায় একটু খাদ্য কুড়িয়ে খাওয়ার আশায়। কিন্তু অধিকাংশ সময়ই তা জোটে না।

আমার মেসের দেয়ালের ফোঁকড়ে বাসাবেঁধে ছিল এক চড়ুই দম্পতি। তাদের ছিল তিনটি ছোট্ট বাচ্চা, কিন্তু চড়ুই দুটি তাদেরকে পর্যাপ্ত খাবার দিতে পারতো না। এবং নিজেরা ও খেতে পেট পুরে খেতে পেত না।তাই সারাদিন আমার জানালার পাশে এসে কিচির-মিচির শব্দে ডাকাডাকি করত। তাদের চিৎকার শুনে সকাল বেলা আমার রুমের জানালার ধারে একমুঠো করে চাল একটা কাগজের উপরে ছড়িয়ে দিতাম তা দেখে চড়ুই পাখিগুলো সেখান থেকে মহা আনন্দে চাল কুড়িয়ে খেত। এবং তাদের বাচ্চাদের জন্য সংগ্রহ করে বাসায় নিয়ে যেত।

এবং বাচ্চা দুটিকে অতি যত্নসহকারে আহার করাতো তা দেখে আমার দারুন আন্ন্দ হত।যেদিন সকাল বেলা আমার ঘুম থেকে উঠতে দেরি হত। সেদিন চড়ুই পাখিগুলো এসে জানালায় পাখা ঝাপটে বাড়ি দিত আর ভীষন চিৎকার করে ডাক দিত।কিছুদিন পরে বাচ্চাগুলো যখন কিছুটা বড় হলো এবং উড়তে শিখলো তখন তিনটে বাচ্চাসহ চড়ুই দম্পতির পাঁচজন সদস্য হল।

এরপর পাঁচটি চড়ুই প্রতিদিন আমার জানালার ধারে এসে সারাদিন উড়া্উড়ি করত এবং আমি সকাল-বিকাল তাদেরকে খাবার দিতাম। মাঝে-মাঝে সকাল বেলা উঠে দেখতাম বুলবুলি কিংবা টুনটুনি এসে চড়ুইপাখি দের সাথে চাল কুড়িয়ে খাচ্ছে।

কখনো আবার কাকের দলে এসে তাদেরকে তাড়িয়ে দিয়ে চাল খেয়ে ফেলতো্। কয়েকটা বিড়াল এসে পাশের জানালার ধারে বসে ওৎঁ পেতে থাকত একটু সুযোগ পেলেই চড়ুইয়ের বাচ্চাদের উপর হামলা করার জন্য। কিন্তু তারা সফল হতে পারতো না।

আমরা হয়তো ভাবি ছোট্ট এই চড়ুই আমাদের কী উপকার করবে কিন্তু আমাদের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় চড়ুই পাখি অনেক গুরুত্বর্পূণ অবদান রাখে। এরা ফসলের জন্য মারাত্নক ক্ষতিকর বিভিন্ন রকমের কীটপতঙ্গ খেয়ে ফসলকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে।এরা গাছের ডালে বসে গাছের সৌর্ন্দয্যে বৃদ্ধি করে। এবং ছোট প্রজাতির গাছের পাতা ধ্বংস কারী বিভিন্ন প্রজাতির পোকামাকড় খেয়ে গাছকে রক্ষা করে।

চীন দেশের সরকার একবার ঘোষণা দিয়েছিল চড়ুই তাদের কোন কাজে আসে না তাই সকল চড়ুই পাখিকে মেরে ফেলা হবে। এবং সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক প্রশাসনিক বাহিনী সে দেশের সকল চড়ুই পাখিকে গুলি করে হত্যা করে। এর কিছুদিন পর দেখা যায় সেদেশের সকল রকমের শষ্যক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে ক্ষতিকর পোকামাকড় আক্রমণ শুরু করেছে।

খুব শীঘ্রই তাদের সব ধরণের ফসল পোকামাকড়ে নষ্ট করে দেয় এবং জীবন ধারণের জন্য খাদ্যশষ্য মজুদ না থাকায় খাদ্যের তীব্র সংকট দেখা যায়। এবং তারা মারাত্নক দূর্ভিক্ষর কবলে পড়ে। সেই দূর্ভিক্ষে লক্ষ লক্ষ লোক মারা যায়।চীনা সরকা্র দ্রুতই বুঝতে পারে অন্যায় ভাবে চড়ুই নিধনের ফলে তাদের এই ভয়ঙ্কর পরিণতি দাড়িয়েছে।

তারা আবার চড়ুই পাখি পোষা আরম্ভ করে এবং ধীরে-ধীরে তাদের অবস্থার উন্নতি হয় । চড়ুই পাখির আমাদের সবচেয়ে কাছের বন্ধু আমারা তাদের খোঁজ রাখবো তাদের একটু খেতে দেয়ার চেষ্টা করবো তাহলে তারা আমাদের কাছাকাছি থাকবে। এবং আমাদের আনন্দ দিবে।

লেখক:-মো:নুরুজ্জামান   

প্রজন্মনিউজ২৪/জামান

 

     

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন