প্রবাসীরা আমাদের প্রেরণা

প্রকাশিত: ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০২:১৮:৪৪ || পরিবর্তিত: ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০২:১৮:৪৪

৫৬ হাজার বর্গমাইল আয়তনের ছোট্ট একটি দেশ আমাদের এই সবুজ-শ্যামল বাংলাদেশ।আয়তনের তূলনায় এর জনসংখ্যার ঘনত্ব অনেক বেশী।

এবং জনসংখ্যার তূলনায় এখানে কর্মসংস্থানের সুযোগ অত্যন্ত অপ্রতুল।কর্মসংস্থানের পর্যাপ্ত সুযোগ না থাকায় এদেশের লক্ষ লক্ষ যু্বক বেকার অবস্থায় অত্যন্ত দূর্বিষহ জীবন-যাপন করছেন।বেকারত্বের অভিষাপ থেকে মুক্তি পেতে,শত-শত যুবক প্রতিদিন পাড়ি জমাচ্ছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নানা প্রান্তে।

বৈধ-অবৈধ ভাবে প্রতিদিন তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উদ্দেশ্যে গমন করছেন।সমুদ্র পথে পাড়ি জমাতে গিয়ে প্রতিদিন নৌকাডুবির ঘটনায় অসংখ্য মানুষ তলিয়ে যাচ্ছেন মহাসাগরের অতল তলে।

জীবনের শেষ মুর্হূতে এক নজর দেখতে পায়না কোন আপনজনের মায়াবী মুখ।আত্নীয় স্বজনেরা অপেক্ষায় থাকেন স্বাবলম্বী হয়ে কবে ফিরবে তাদের অতি আদরের প্রিয় সন্তানটি।কিন্তু অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আর ফেরে না তাদের প্রিয় সন্তানটি।

যদিও বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার অধিকাংশ আসে প্রবাসীদের অতি কষ্টে উপার্জিত আয় থেকে।এবং বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স।মাতৃভূমির মায়া কাটিয়ে আমাদের লক্ষ লক্ষ প্রবাসী বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছেন।

যেখানে অসুস্থ হলে কেউ দেখার থাকে না,কষ্টের কথাগুলো কাউকে বলার থাকে না ।অভুক্ত থাকলে কেউ দুমুটো খেতে দেয় না।  আমরা কী কখনো তাদের অবর্ণনীয় কষ্টের কথা জানার চেষ্টা করেছি।কখনো কী তাদের প্রাপ্য মর্যাদা দেওয়ার চেষ্টা করেছি।

যখন প্রতিনিয়ত বিশ্বের অনেক দেশে আমাদের প্রবাসী শ্রমিকেরা তাদের বিদেশী মালিকদের দ্বারা নির্মম নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।অসংখ্য শ্রমিক মাসের পর মাস কঠোর পরিশ্রম করেও পাচ্ছেন না তাদের ধার্য্যকৃত পারিশ্রমিক।

অতি অল্প মজুরিতে প্রতিদিন ১৮-২০ ঘন্টা পযর্ন্ত কাজ করেন অনেক শ্রমিকঅসংখ্য শ্রমিক বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জেলখানায় বন্দী হয়ে কাটাচ্ছেন অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন।

আকামা না থাকায় গৃহ বন্দী রয়েছেন হাজার হাজার শ্রমিক।এমন অনেক শ্রমিকের কাছে শুনেছি যারা শুধূ পানি খেয়ে চার দিন পাঁচ দিন পর্যন্ত অতিবাহিত করেছেন।এবং অসংখ্য শ্রমিক এখনো অভুক্ত অবস্থায় দিনাতিপাত করছেন।যারা

বিদেশে গিয়েছেন তাদের শেষ সম্বল ভিটেমাটিটুকু বিক্রি করে দিয়ে।বিদেশে অবস্থিত আমাদের অ্যাম্বাসিগুলো কী তাদের যথাযথ খবর রাখে।যদিও তাদের বিরুদ্ধে রয়েছে বিস্তর অভিযোগ।

হাজার হাজার দিস্তা পাতা লিখেও শেষ করা যাবেনা প্রবাসীদের নির্মম কষ্টের কাহিনী।শত কষ্টের মাঝেও প্রবাসীরা আমাদের নতুন করে চলার অনুপ্রেরণা যোগায়।পরিশেষে বলতে চায়,আমরা সকলেই যেন প্রবাসীদের ভূলে না যায়, তাদের কষ্টগুলো ভূলে না যায়,এবং তাদের যথাযোগ্য মর্যাদা দেওয়ার চেষ্টা করি।

বিশ্বের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা সকল শ্রমিকদের জানাই অজস্র সালাম এবং স্যালুট।

লেখক:মো:নুরুজ্জামান

প্রজন্মনিউজ২৪/জামান

 

   

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ