বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পে প্রয়োজন প্রচুর ট্যুরিস্ট এক্টিভিটিজ

প্রকাশিত: ৩১ অগাস্ট, ২০১৮ ০৬:৪৩:৩৩ || পরিবর্তিত: ৩১ অগাস্ট, ২০১৮ ০৬:৪৩:৩৩

ঢাবি প্রতিনিধি: প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর বাংলাদেশে রয়েছে শতশত দর্শনীয় স্থান (নদী, সৈকত, পুরনো স্থাপত্য, ধর্মীয় ঐতিহ্যবাহী মন্দির, মসজিদ, গির্জা, পাহাড়, ঝরনা, চা বাগান ইত্যাদি)।বালুময় সমুদ্রের তীর এবং নীল পানির ঢেউ এর সৌন্দর্যমন্ডিত বিশ্বের বৃহত্তম সমুদ্র সৈকত, যেখানে প্রতিনিয়তই ভিড় জমাচ্ছে দেশি-বিদেশি হাজার হাজার পর্যটক।

তাছাড়া রয়েছে কুয়াকাটা, রাঙ্গামাটি, বান্দরবন, জাফলং, সেন্টমার্টিন, শ্রীমঙ্গল, খাগড়াছড়ির মত বহু দর্শনিয় স্থান। প্রতি বছর এইসব স্থানগুলোতে হাজার হাজার এডভেঞ্চার এবং ব্যাকপেকার পর্যটকরা ভ্রমণ করেছে । ডাব্লউটিটিসি 2017 তথ্য অনুযায়ী “বাংলাদেশের ট্রাভেল এবং ট্যুরিজম” খাত জিডিপিতে অবদান রাখছে প্রায় ৪.৩৫%। তাছারা ও আর্থ সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং পরিবেশগত উন্নয়নে অনেক ভূমিকা রাখছে। এর মধ্যে আয়ের একটা বড় অংশ আসে দর্শনীয় স্থানগুলোর রিক্রিয়েশনাল এক্টিভিটিজ থেকে ।

প্রাক্তন মন্ত্রী“ রাশেদ খান বলেন, “দেশের প্রায় ৬০% মানুষই ঝুবক ঝুবতী। তারমধ্যে ৩৬% পর্যটকই এডভেঞ্চার টাইপের। যদি এই ইয়ং জেনারেশনকে ভ্রমণ করতে আকৃষ্ট করতে পারি তাহলে বাংলাদেশের ট্যুরিজম আরও এগিয়ে যাবে”। প্রকৃতপক্ষেই বাংলাদেশ এডভেঞ্চার ট্যুরিজম এর জন্য প্রতিবেশী দেশগুলোর মতই খুবই সম্ভাবনাময়। কিন্তু বাংলাদেশের দর্শনীয় স্থানগুলোতে নেই পর্যাপ্ত ট্যুরিস্ট এক্টিভিটিজ ,যা ইয়ং জেনারেশনকে বেশি আকৃষ্ট করবে ।

বাংলেদেশে ট্যুরিস্ট এক্টিভিটিজ এর মধে রয়েছে যেমনঃ সারফিং, সাইকেলিং, হর্স রাইডিং, মেরিন ড্রাইভ ইত্যাদি । কিন্তু এগুলো প্রতিবেশী দেশ ভারত, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভুটান এর তুলনায় একেবারেই কম। প্রতিবেশী দেশ ভারত যেখানে রয়েছে অনেক ট্যুরিস্ট এক্টিভিটিজ। ডাব্লউটিটিসি এর তথ্য অনুযায়ী ২০১৬-১৭-১৮ সালে ভারতে, বাংলাদেশ থেকে বেশি পর্যটক ভ্রমন করেছে। আর বাংলাদেশী পর্যটকদের ভারতে ভ্রমনের অন্যতম একটা কারণ হতে পারে, এসব ট্যুরিস্ট এক্টিভিটিজ ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালইয়ের ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট এর ছাত্র হয়ে বিগত সাড়ে তিন বছর বহু পর্যটন স্থান পর্যবেক্ষণ করছি। বহু ট্যুরিস্টদের উপর সার্ভে করেছি। বিশেষ করে এডভেঞ্চার পর্যটকের উপর। দেখা গেছে যে, এডভেঞ্চার ট্যুরিস্টরা বাংলাদেশ দর্শনীয় স্থানগুলোতে পর্যাপ্ত রিক্রিয়েশনাল এক্টিভিটিজ পচ্ছে না। যার কারণে বাংলাদেশের ঐ স্থানগুলোতে পর্যটকরা পুনরায় ভ্রমন করতে চাচ্ছে না। কিন্তু একটা সমীক্ষায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে ইয়ং জেনারেশন এডভেঞ্চার ট্যুরিজ্‌ম এর প্রতি খুব আগ্রহী। সময় পেলেই তারা বাংলাদেশের বিভিন্ন দর্শনীয়ও স্থানগুলোতে ভ্রমণ করছে।

সর্বোপরি আমি মনে করি, বাংলাদেশের দর্শনীয় স্থানগুলোতে ট্যুরিস্ট এক্টিভিটিজ যেমনঃ Cable car, Scuba diving, Bungee Jumping ,Hiking, Fishing এর মতো অনেক এক্টিভিটিজ বাড়ানো যেতে পারে। এতে দেশীয় পর্যটকদের এর পাশাপাশি বিদেশী পর্যটক বাড়বে। আর এজন্য বাংলাদেশ “বেসামরিক বিমান এবং পর্যটন”মন্ত্রণালয়সহ, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন ,বাংলাদেশ ট্যুরিজ্‌ম বোর্ড এবং প্রাইভেট সেক্টরকে এগিয়ে আসতে হবে।

মোঃ নাসির মিয়া

চতুর্থ বর্ষ

ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যনেজমেন্ট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

প্রজন্মনিউজ২৪/নাসির/জাকির

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন





ব্রেকিং নিউজ