প্রাইমারী স্কুলেই আমরা মানুষ হবার শিক্ষা পেয়েছি..

প্রকাশিত: ১৬ এপ্রিল, ২০১৮ ০২:৪৪:৩৮ || পরিবর্তিত: ১৬ এপ্রিল, ২০১৮ ০২:৪৪:৩৮

মোঃ ফয়সাল কবির রানা : স্কুলে যাওয়ার সময় একটা ছেলের ঘাড় থেকে ব্যাগটা পরে গেলো। আমার খুব কাছে হওয়ায় ব্যাগটা তুলে দিয়ে ঝেড়ে দিলাম। ওর মা অথবা খালা হবে - জিজ্ঞাসা করি নাই - আমাকে ধন্যবাদ দিয়ে ছেলেটাকে স্কুলের ভিতর প্রবেশ করলেন। ভেতরে যাওয়ার আগে ছেলেটা আমার দিকে আবার তাকিয়ে ভীরের ভেতর হারিয়ে গেলো। আমি খেয়াল করেছি বাচ্চাটার রাতে ভালো ঘুম হয়নি চোখ ডলছে দু'হাত দিয়ে।

  হয়তো আব্বু বা আম্মুর এন্ড্রয়েড সেটটা হাতে নিয়ে রাতে গেম খেলেছে বা কার্টুন দেখেছে। কিন্তু প্রতিযোগিতার (?) যুগে শীতের সকালেও তাকে উঠে আসতে হয়েছে ৭.৩০ এ এসে লাইনে দাঁড়িয়ে দেশ সেবার শপথ নেয়ার জন্য। খুব ভালো কথা। আমি অবাক হলাম ওর ব্যাগ যখন তুলে দিচ্ছিলাম। ব্যাগের ওজন ঐ বাচ্চাটার সমান হবে কি না! এতো ভারী! ওর মায়ের হাতে আবার একটা পানির বোতল, আর টিস্যু পেপার। বাচ্চার সেবায় নিয়োজিত বেচারী।

  আমাদের দেশের হস্তশিল্প কমে যাওয়ার পিছনে এটা একটা বড় কারন। মায়েরা নিজ হাতে কাথা সেলাই, জামা সেলাই, ব্লক-বুটিকের কাজ, রুমালে নকশা আঁকা, কাপড় কেঁটে জামা- পায়জামা তৈরীর সময় আগের মতো আর পাচ্ছেন না। যতটুকু সময় পাচ্ছেন ওনারা স্কুলে বাচ্চার পিছনে আর টিভি সিরিয়াল নিয়ে ব্যস্ত।

  একজন ছেলে বা মেয়ে তার প্রাইমারী স্কুলে অনেক আদব কায়দা শিক্ষা পেয়ে থাকে। আমরা যখন প্রাইমারী স্কুলে পড়েছি ১৯৯১-৯৫ তখন স্যারকে "স্যার" বলতাম আর ম্যাডামকে "ম্যাম" না বলে "আপা" বলতাম। এতেই তারা সম্মানীত বোধ করতেন। প্রাইমারীতে আমরা কখনও কাঠিন্য বোধ করিনি বা কখনও দেখিনি ক্লাস ওয়ান এ পড়া কোনো বন্ধুর পিছনেও তার মা বা বড় বোন এসে হাজির।

  এখন হয়তো সামাজিক নিরাপত্তা কমে গেছে!! গুম করে অর্থ দাবি করে। তাই ক্লাস শেষ করে সাথে করেও নিয়ে যেতে দেখা যায়। স্কুলে ভর্তি করানোর সময় মা বা বড় বোন এসে স্কুল চিনিয়ে দিয়ে যেতেন এবং বলতেন কাল থেকে সোজা স্কুলে আসবা। স্কুলের আপারা আমাদেরকে মায়ের স্নেহ দিয়ে লেখাপড়া শিক্ষা দিতেন। পড়া না পারলে আদর দিয়ে শাসন করতেন। তাদের চোখে মুখে বিরক্তির ছাপ থাকতো না।

  পড়া একবার না বুঝলে আবার বুঝিয়ে দিতেন। স্কুলের স্যার ও আপারা আমাদের শিখিয়ে দিতেন নখ কাটতে হয় কিভাবে, হাত ধুতে হয় কিভাবে, কিভাবে স্কুল বা বাসার আঙিনা পরিস্কার রাখতে হয়। চুরি না করা, মিথ্যা না বলা, ভদ্র ও নম্র হওয়া, বাবা মায়ের কথা শোনা, সমাজের গুণীজনকে সম্মান করা, মারামারি না করা, বন্ধুর সাথে টিফিন ভাগ করে খাওয়া, অন্ধ মানুষকে রাস্তা পার করে দেয়া, নিজেরা ডানে বামে দেখে রাস্তা পার হওয়া।

  অর্থাৎ ভালো লেখাপড়া করার পাশাপাশি সমাজের একজন ভালো মানুষ হবার শিক্ষা আমরা প্রাইমারী স্কুলেই পেয়েছি । যে শিক্ষকগণের এতো ত্যাগের বিনিময়ে আমরা প্রাইমারী পাশ করে বড় হয়েছি সেই সকল পিতৃতুল্য শিক্ষক, শিক্ষিকাগণকে আমরা কোনোদিন ভুলতে পারিনা। তাদের সার্বিক খোঁজ খবর রাখা আমাদের কর্তব্য।

--- ফয়সাল / হামিদুর

(ফেসবুক থেকে সংগৃহিত)
 

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ