শিক্ষা দিবসের ভবনা

প্রকাশিত: ০৬ অক্টোবর, ২০১৬ ০৫:৩০:৫৮

দেশে গত সাড়ে সাত বছরে শিক্ষার ব্যাপক সম্প্রসারণ ঘটেছে। উচ্চশিক্ষার মান যথাযথ করার লক্ষ্যে এ ক্ষণে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসি প্রয়াস গ্রহণ করেছে। ২০১০ সালে প্রণীত শিক্ষানীতিটির বাস্তবায়ন অবশ্য খুব ধীর লয়ে হচ্ছে। এটি বাস্তবায়িত হলে নিম্নতর শ্রেণি থেকে উচ্চতর শ্রেণি পর্যন্ত কল্যাণমুখী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে উঠত। সম্প্রতি পত্রিকান্তরে প্রকাশিত রিপোর্টে দেখা যায় যে, কারিগরী বিষয়ে অদক্ষতার কারণে বছরে ৬০০ কোটি ডলার বিদেশিরা নিয়ে যাচ্ছে।

এ দেশে কারিগরী শিক্ষায় ১০ শতাংশের কম ছাত্রছাত্রী পড়ে থাকে। এ ব্যাপারে শিক্ষামন্ত্রীর ব্যাপক প্রচারণা সত্ত্বেও সামাজিক মূল্যবোধ ও চিন্তা-চেতনায় পরিবর্তন না আসা পর্যন্ত কারিগরী ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রতি অভিভাবক ও অভিভাবিকারা বুঝবেন না। শিক্ষা দিবসে একটি কার্যকর ও উন্নততর জাতি হিসেবে আমাদের অগ্রযাত্রা যাতে আরও বেগবান হয় সে জন্যে অবশ্যই কর্মপন্থা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে।

গবেষণা করতে গিয়ে দেখেছি যে, আমাদের দেশের প্রাইমারি ও অষ্টম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীরা যাতে ভালো ফল করে সে জন্যে কোমলমতি ছাত্রছাত্রীদের অভিভাবক-অভিভাবিকাদের একাংশ স্বয়ং অসৎ পথ অবলম্বন করেন। বাংলাদেশে শিক্ষার মান বাড়াতে হলে গোড়ায় গলদ দূর করা দরকার। প্রাইমারির সম্মিলিত পরীক্ষা

তুলে দেওয়া বাঞ্ছনীয়। সর্বাগ্রে ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনা আনন্দমুখর করে তোলা দরকার। যারা প্রাইমারিতে শিক্ষক-শিক্ষিকা হচ্ছেন তারা যেন আত্মমর্যাদা সম্পন্ন হন তা দেখার দায়িত্ব সমাজের। কেননা সরকার বেতন বৃদ্ধি করতে পারে। কিন্তু স্কুলের সভাপতি যদি বলেন যে, আমার একজন ড্রাইভার দিয়ে তিনজন প্রাইমারি স্কুলশিক্ষক রাখতে পারি তখন আর মানমর্যাদা থাকে না।

আবার প্রাইমারি স্কুলের অনেকগুলো ভালোভাবে নিরীক্ষা করে দেখেছি যে, প্রায় ২৫% প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা ঠিকমতো ক্লাস নেন না। সরকারের প্রয়াসে প্রাইমারি পর্যায়ে মেয়েদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। প্রাইমারি পর্যায়ে থেকে দেশ, অসম্প্রদায়িক চেতনা, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, বঙ্গবন্ধু ও অহিংসতার নীতি সম্প্রসারিত করতে হবে। যতক্ষণ না প্রাইমারি পর্যায়ে সম্মিলিতভাবে পরীক্ষা তুলে না দেওয়ার ব্যবস্থা হবে ততক্ষণ পর্যন্ত কোমলমতি ছাত্রছাত্রীদের অধিকাংশই শিক্ষাকে আনন্দমুখী করতে পারবে না; বরং তারা অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়বে।

এদিকে অষ্টম শ্রেণিতে বার্ষিকভাবে সম্মিলিতভাবে পরীক্ষা চালু রেখে অষ্টম শ্রেণির পর পরই ফলাফলের ভিত্তিতে কারিগরী ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার উপর অধিকতর গুরুত্ব আরোপ করতে হবে। কারিগরী ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় নতুনত্ব আনতে হবে। কেননা সামাজিকভাবে কারিগরী ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এখনও গ্রহণযোগ্য নয়; অনেকটা অন্য কোথাও সুবিধা করতে না পারাতে পড়ে থাকে। বর্তমানে যে কারিগরী বোর্ড আছে সেগুলো ভালো করে নিরীক্ষা করে ঢেলে সাজানো দরকার। আবার কারিগরী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহে উচ্চমানসম্পন্ন শিক্ষক-শিক্ষিকার একান্ত অভাব রয়েছে। যদি নবম শ্রেণি থেকে কারিগরী শিক্ষাকে আধুনিকায়ন করা যায়, তবে ভালো হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে যে, ভালো ইংরেজি এবং অংক শেখানোর শিক্ষক-শিক্ষিকা নিম্ন পর্যায় থেকে আরম্ভ করে মাধ্যমিক পর্যায়ে নেই। আর মাদ্রাসায় এখন পর্যন্ত ইংরেজি, অংক ও বিজ্ঞান শিক্ষার ক্ষেত্রে যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে। মাদ্রাসা বোর্ডেরও এ ক্ষেত্রে দায়সারা ভাব পরিলক্ষিত হয়েছে। অথচ ইবনে সিনা, আল বেরুনীর মতো জ্ঞানীগুণীর উন্মেষ ঘটেছিল। জ্ঞান মানুষকে নম্র, ভদ্র, সহনীয় ও ঔদার্যপূর্ণ করে।

 

schools1
যতক্ষণ না প্রাইমারি পর্যায়ে সম্মিলিতভাবে পরীক্ষা তুলে না দেওয়ার ব্যবস্থা হবে ততক্ষণ পর্যন্ত কোমলমতি ছাত্রছাত্রীদের অধিকাংশই শিক্ষাকে আনন্দমুখী করতে পারবে না; বরং তারা অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়বে

 

শিক্ষকতা একটি মহৎ পেশা নিঃসন্দেহে। একজন শিক্ষকের নিজের স্বীয় কর্তব্যকর্মে সর্বদা সজাগ থাকা বাঞ্ছনীয়। বর্তমান যুগে যুগোপযোগী উন্নতমানের শিক্ষার জন্যে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা দরকার। শিক্ষাব্যবস্থা অবশ্যই আন্তর্জাতিকীকরণ করতে হবে। মানুষের মধ্যে মানবতাবোধ জাগ্রত করতে হবে। শিক্ষক-শিক্ষিকারা যাতে দেশের বাইরে প্রশিক্ষণ পান সে জন্যে অবশ্যই একটি প্রদক্ষেপ নিতে হবে। মহৎ পেশাকে মহত্তর করতে হলে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ভেতরে যে সুন্দরের মনোবৃত্তি আছে তার স্ফূরণ ঘটাতে হবে। তথাকথিত ম্যানেজিং কমিটির মধ্যে যারা অন্যায়ভাবে দলাদলি করে শিক্ষকদের মানমর্যাদা নষ্ট করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিৎ। আবার যে সব শিক্ষক-শিক্ষিকা তাদের কর্তব্যকর্মে অবহেলা করছে তাদের বিরুদ্ধেও প্রমাণ সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

গ্রামীণ এলাকায় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে শিক্ষক-শিক্ষিকারা স্বেচ্ছাভিত্তিক অংশ নিতে পারেন। শিক্ষক-শিক্ষিকেরা কেমন পড়ান সে জন্যে বিদেশের আদলে প্রতিটি প্রাথমিক স্কুলের হেডমাস্টার কর্তৃক Peer Review অর্থাৎ একজন কগিল কর্তৃক তার সম্মাতিতে অন্য কলিগকে একটি নির্দিষ্ট সময়ে ক্লাস পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। আবার কোনো শিক্ষক-শিক্ষিকা যাতে প্রাথমিক পর্যায় থেকে কখনও ছাত্রছাত্রীদের মগজ ধোলাই না করে সে দিকে খেয়াল রাখা উচিৎ।

দুভার্গ্যজনক হলেও সত্য এনসিটিবি বিভিন্ন সময়ে এ দেশের সত্যিকার ইতিহাস বিকৃত করেছে। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড না ঘটতে পারে সে দিকে খেলায় রাখা দরকার। পাশাপাশি মাধ্যমিক পর্যায়ের বইগুলো যাতে ক্ষীণমান হয়ে আশির দশকের মতো না হয় সে দিকেও খেয়াল রাখা দরকার।

বর্তমানে ‘কোলবালিশের’ মতো বড় বই হচ্ছে, আর ছাত্রছাত্রীরা বইয়ের বোঝায় চ্যাপ্টা হচ্ছে! এটিও আসলে ঠিক নয়। ছাত্রছাত্রীরা কতটুকু গ্রহণ করতে পারবে সে অনুযায়ী বইয়ে কোর্স কারিকুলাম সংকোচন করতে হবে। ঢাউস ঢাউস বই বের করছে এখন অথচ কোনো লাভ হচ্ছে না। ‘গ্লোডেন জিপিএ’ পেয়েও বইয়ের অন্তনির্হিত তাৎপর্য বুঝতে পারে না। আসলে ১৪-১৫ বছরের সাধারণ ছাত্রছাত্রীর মস্তিষ্কে কতটুকু ঢুকবে সে অনুযায়ী কোর্স কারিকুলাম তৈরি করতে হবে।

প্রতিটি স্কুলে/মাদ্রাসায় জাতীয় পতাকা ওড়ানো, জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া যাতে হয়, সে ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করতে হবে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে। পাশাপাশি পিএসসি যাতে অবিলম্বে বন্ধ হয়ে বার্ষিক পরীক্ষায় প্রতি স্কুলভিত্তিক হয় সে দিকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষাটি সুন্দরভাবে অনুষ্ঠিত করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা বাঞ্ছনীয়। এটি যাতে নকলমুক্ত পরিবেশ হয় সে জন্যে অভিভাবকদের দায়িত্ব বেশি।

সেকেন্ডারি স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষার পূর্বে ছাত্রছাত্রীরা যাতে জোবরদস্তির কারণে পড়াশোনার প্রতি অনাগ্রহী না হয়ে ওঠে– সে দিকে খেয়াল রাখা বাঞ্ছনীয়। আমাদের কিছু কিছু অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকা নিজেদের অতীতের কথা ভুলে খালি সিলেবাস বড় করে চলেছেন, কোমলমতি ছাত্রছাত্রীদের গিনিপিগ বানিয়ে চলেছেন– এটি বন্ধ করা দরকার। একই অবস্থা হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষাতেও। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর মান উন্নত করার জন্যে সরকার চেষ্টা করছে। তবে যেহেতু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বেতন বৃদ্ধির পরও বেতন কম সে জন্যে স্থানীয় শিক্ষক-শিক্ষিকাকে কাছের স্কুলের বদলির ব্যবস্থা করা দরকার।

দেশে বর্তমানে কওমি মাদ্রাসা রয়েছে ৬,৫০০। সরকার কর্তৃক ফান্ড দেওয়া আলিয়া মাদ্রাসা হচ্ছে ৬৯০৬টি। এ মাদ্রাসাগুলোর পড়ার মান যুগোপযোগী না করা গেলে ভবিষ্যতে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীরা কিভাবে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করবে– সেটি ভেবে দেখার সময় এসেছে। কেননা কওমি ও আলিয়া মাদ্রাসা মিলে মোট ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা হচ্ছে ৩৩,৪০,৮০০ জন। এদের কর্মসংস্থান কিভাবে হবে?

ডাইরেক্টর অব টেকনিক্যাল এডুকেশনের কারিগরী ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা দেখার কথা। কারিগরী সিলেবাস তৈরি করে থাকে বিটিইবি। অথচ এ সিলেবাসগুলোর অধিকাংশই মান্ধাতার আমলের।

কারিগরী ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে আরও বেশি সামাজিক স্বীকৃতি দিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন ধরনের কোর্স চালু করা যেতে পারে। তার আগে অবশ্যই দেশের সামগ্রিক চাহিদা ও ইন্ডাস্ট্রি লিংকেজ দেখা বাঞ্ছনীয় হয়ে পড়েছে। আজ সজীব ওয়াজেদ জয়ের নেতৃত্বে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ হচ্ছে। প্রতি বছরে অসংখ্য কম্পিউটার গ্র্যাজুয়েট বের হচ্ছে। কিন্তু তাদের মাত্র ৫% আন্তর্জাতিক মানের। বাদবাকিদের অবস্থা মোটেই ভালো নয়। নার্সিংয়ের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। আসলে শিক্ষাকে আন্তরিকতার সঙ্গে গ্রহণ করতে না পারলে তার ফল ভালো হয় না।

বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষার মান উন্নয়নের জন্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসি বর্তমানে নানাবিধ ব্যবস্থা নিয়েছে। তবে দীর্ঘ সময় ধরে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কতকগুলোতে যে বিভ্রান্তি অপপ্রয়াস শুরু হয়েছিল তা রাতারাতি দূর করা সম্ভব নয়। এ ক্ষণে আন্তর্জাতিকীকরণের ক্ষেত্রে নানাবিধ উদ্যোগ দেশেবিদেশে এবং আঞ্চলিক সংস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।

সার্ক বর্তমানে একটি অকার্যকর সংস্থা। বিমস্টেকেও গতিময়তা নেই এবং সেখানে শিক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতার কোনো উল্লেখও নেই। অথচ ব্রিকস তাদের পাঁচটি দেশ ব্রাজিল, রাশিয়া, চীন, ভারত এবং দক্ষিণ আফ্রিকা নিজেদের মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীদের অধ্যয়ন এবং শিক্ষক এক্সচেঞ্জের পদক্ষেপ গত ৩০ সেপ্টম্বর গ্রহণ করেছে। ব্রিকসের সে ঘোষণায় অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং ন্যায়পরায়ণতার সঙ্গে গুণগতমানসম্পন্ন শিক্ষার বিস্তার ও সম্প্রসারণ এবং সারা জীবনের জন্যে শিক্ষাগ্রহণ বর্ধিতকরণের প্রয়াসের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্রিকসের সদস্য হলে মন্দ হত না, শিক্ষাক্ষেত্রে মান বিস্তারে একটি ভালো পদক্ষেপ হত। এ দিকে বিমস্টেকে যদি জননেত্রী শেখ হাসিনা তাঁর বিজ্ঞোচিত নেতৃত্বগুণে জাগিয়ে তুলতে পারেন এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করতে উদ্যোগ গ্রহণ করেন তবে ভালো হয়। কেননা আন্তর্জাতিকভাবে মানসম্পন্ন শিক্ষার ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশের মধ্যে সাহায্য-সহযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও শিক্ষক-শিক্ষকা বিনিময় করতে আঞ্চলিক সংস্থাকে উদ্যোগী হতে হবে। এ ক্ষেত্রে আসিয়ান তার সদস্যদেশসমূহে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করছে।

বাংলাদেশ যাতে ব্রিকসের সদস্য হতে পারে তার উদ্যোগ নেওয়া দরকার। আর জননেত্রী শেখ হাসিনাই পারেন বিমস্টেককে পুনরুজ্জীবিত করতে এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতার সম্প্রসারণ ঘটানোর উদ্যোগ নিতে। বর্তমানে অটিস্টিক শিশুদের জন্যে সরকার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। তবে অটিস্টিক শিক্ষার সম্প্রসারণে উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে।

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন