খালেদা জিয়ার জেল হলে জাতীয়তাবাদীরা কি করতে পারবেন !

প্রকাশিত: ২৮ জানুয়ারী, ২০১৮ ১২:৩১:০২

খালেদা জিয়ার জেল হলে জাতীয়তাবাদীরা কি করবেন বা করতে পারবেন? জাতীয়তাবাদী ভাইদের আবেগ উৎকন্ঠা আমাকেও ছুঁয়ে গেছে ! তবে এটা যেহেতু অনেক পুরনো পরাজয় তাই ব্যক্তিভাবে আমি ততোটা বিচলিত কিংবা অবাক নই!

বেগম খালেদা জিয়ার পরাজয় সেদিনই নিশ্চিত হয়েছে যেদিন তিনি ইসলামপন্থীদের রক্তকে আওয়ামী আজ্ঞাবাহীদের মতো হালাল মনে করেছেন। রাজনীতি যদিও জনগণের খেদমতের স্লোগানমাখা একটা বর্নচোরা শব্দ। আসলে এটা একটা যুদ্ধ! যে যুদ্ধে পরাজিতদের ভাগ্য নির্ধারন করে দেয় বিজয়ীরা!

ক্রমাগত চেতনা ও তথ্যসন্ত্রাসে বিপর্যস্ত বেগম খালেদা জিয়া এবং তার সঙ্গীগন বুঝতেই পারেননি যে চেতনার নাম দিয়ে ইসলামপন্থীদের নির্মূল করে এদেশে জাতীয়তাবাদীদের চুড়ান্ত পরাজয়ের ফাঁদেই তারা আটকে গেছেন!

ইসলামপন্থীদের রাষ্ট্র ক্ষমতায় যাওয়ার বিষয়ে প্রচেষ্টা রয়েছে কিন্তু সেটাই একমাত্র লক্ষ্য নয়! তাই ফাঁসির দড়ি কিংবা জেল জুলুম অনেকটা নিশ্চিত ভেবেই তারা এ পথে পা বাড়ায়! ক্ষমতায় গেল কিংবা কি পেলো না পেলো এসবের হিসেব মেলানোর সময় কিংবা সুযোগ তাদের থাকে না! এক অনন্ত প্রচেষ্টার অতি ক্ষুদ্র অংশ রাষ্ট্রক্ষমতা! একটা কল্যানমূখী, ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ কায়েমের প্রচেষ্টাই এখানে মুখ্য!

কিন্তু দীর্ঘ ক্ষমতার বাইরে থেকে বিশাল সাপোর্টার থাকা সত্বেও আদর্শিক দৃঢ়তা দিয়ে দীর্ঘদিন লড়াই করে টিকে থাকার মতো সামর্থ্য ক্ষমতাকেন্দ্রিক কোন দলের পক্ষেই সম্ভব নয়। তাদের টিকে থাকার জন্য না আছে সাহিত্য না আছে শক্তিশালী সুনির্দিষ্ট কোন আদর্শ! এছাড়াও নিজ দলে গণতন্ত্রহীনতা ও বংশ পরাম্পরা ভিত্তিক রাজতন্ত্র তো আছেই! হয়তো ভালোবাসা থাকবে, সিমপ্যাথি থাকবে এই যা!

অনেকদিন আগে এক কলিগ সাংবাদিক বন্ধুকে জিজ্ঞেস করেছিলাম মীর্জা আব্বাস কিংবা সাদেক হোসেন খোকার তো বহু অনুগত কর্মীবাহিনী আছে কিন্তু তারা এতো দূর্বল হলো কিভাবে?

উত্তরটা ছিল এরকম:- প্রথম ৫ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকা অনুগত কর্মীটি মেয়াদ শেষে সাপোর্টার হয়ে গেছে! জেল জুলুম টাকা পয়সা সমস্যা সবকিছু মিলে তার একটিভ থাকার কোন সুযোগ থাকে না। পরের ৫ বছরের শুরুতে সে আওয়ামীলীগ সমর্থকে এভাবে অনেকেই ২/৩ বছরে আওয়ামী নেতা পর্যন্ত বনে গেছে! একসময় হয়তো সেই এককালের সক্রিয় বিএনপি কর্মী এখন সময়ের পরিবর্তনে কড়া আওয়ামী নেতা হয়ে তার একসময়ের রাজনৈতিক গুরুদের উপর ক্ষমতার ছড়ি ঘোরাচ্ছে!

আসলে আদর্শবিহীন ক্ষমতা কেন্দ্রিক দলগুলোর এটাই নিয়তি। সবার ক্ষেত্রেই এটাই চলে আসছে! ভেবে দেখুন তো এরশাদের সময় দাপিয়ে বেড়ানো নেতাদের কয়জন এখন জনগনের মনে রাখার মতো অবস্থায় আছে?

খুব ছোট্ট একটা গল্প দিয়ে শেষ করছি। এক জঙ্গলে ৩টা মোটাতাজা গরু ঘাস খেতে আসতো। একটা কালো একটা লাল আর একটা সাদা গরু! সেখানে থাকা নেকড়ে অনেক চেষ্টা করেও ৩টা থেকে ১টা খেতে সাহস পাচ্ছিল না! সে একটা কুবুদ্ধি আঁটলো। একদিন লাল ও সাদা গরুর সাথে বন্ধুত্ব তৈরি করলো। একদিন দুটোকে বললো দেখ তোমরা এই জঙ্গলে খেতে আসো তাতে আমার কোন আপত্তি নেই কিন্তু আমার ভীষন খারাপ লাগে ঐ কালো কুৎসিত গরুটা তোমাদের সাথে আসে কেন? এখানে আমাদের সবার গায়ের রং কতো সুন্দর কিন্তু ঐ কালোটা বড়ই বেমানান। অনেকদিন ফুসলিয়ে রাজী করালো তোমাদের কোন আপত্তি না থাকলে আমি তাকে মেরে ফেলতে চাই! আর সে না থাকলে এখানে তোমাদের খাবারের ভাগ আরো বেশি করে পাবে?

বুদ্ধিটা লাল এবং সাদা গরুর পছন্দ হলো। নেকড়ের এই তোষামদীতে তারাও পটে গেল! অবশেষে একদিন সুযোগ বুঝে কালো গরুটাকে নেকড়ে সাবার করে ফেললো। কিছুদিন পর নেকড়ের চোখ পড়লো সাদা গরুটার উপর! কিন্তু কিভাবে তাকে বাগে আনা যায়! সে একদিন লাল গরুটাকে একা পেয়ে গদগদ হয়ে বলো, ‘কতো সুন্দর দেখতে তুমি। একবারে টকটকে লাল। আমার গায়ের রংও লাল
তোমারটাও লাল! সাদা জিনিসটা একোবারেই আমার অপছন্দের! আচ্ছা এমন তো হতে পারে, যেহেতু আমরা একই রংয়ের আমরা একসাথেই বনে ঘুরতে পারি কতো মজা হবে?

একদিন..দুইদিন..তিনদিন যায়! একসময় লাল গরুটার সাথে লাল নেকড়ের খুবই বন্ধুত্ব হয়ে যায়। সাদা গরুটা কিছুই বুঝতে পারে না! শুধু অবাক হয়ে চেয়ে থাকে। একদিন সুযোগ মতো লাল গরুটাকে বোঝায় সাদা গরুটা তোমার ভাগের খাবার খেয়ে সাবাড় করে ফেলছে তার চেয়ে বরং একটা কাজ করি আমরা ওকে মেরে ফেলি তখন সমস্ত বন জুড়ে সকল খাবারই তোমার থাকবে! যখন যেখানে খুশি খেতে পারবে! লাল গরুটার লোভ পেয়ে বসলো। সে ভাবে তাইতো..!

একদিন নেকড়ে সাদা গরুটার ঘাড় মটকে দিল। পরের কিছুদিন লাল গরুটার সে কি আনন্দ! পুরো বন ঘুরে ঘুরে একাই খেতে লাগল! নেকড়ের সাথেও তার বেজায় ভাব! কিন্তু নেকড়ের লোভাতুর চোখ এবার লাল গরুটার দিকে!

একদিন হঠাৎ করেই জঙ্গলে ঘুরতে ঘুরতে নেকড়ে লাল গরুটাকে বলে,‘ওহে বোকা গরু রেডি হও আমার বড্ড ক্ষুধা পেয়েছে!’ লাল গরুটার পিলে চমকে ওঠে। কাচুমাচু করে বলে আমার সাথে নিশ্চয়ই মশকরা করছো বন্ধু? নেকড়ে ধমক দিয়ে বলে, ‘চুপ কর বোকা গরু! গরু আবার বন্ধু হয় নাকি?’ অনেক কাকুতি মিনতি করেও লাভ হলো না! লাল গরুটা সব বুঝতে পারলো কিন্তু সেটা অনেক দেরী হয়ে গেছে…! নেকড়েকে উদ্দেশ্য করে লাল গরুটা বললো ওহে ধূর্ত নেকড়ে দেরী করছো কেন? তাড়াতাড়ি আমাকে খেয়ে ফেল! আমিতো সেদিনই মরে গেছি যেদিন তুমি কুবুদ্ধি দিয়ে আমোদের কালো গরুটাকে খাওয়ার অনুমতি নিয়েছো! …..নেকড়ে উচ্চস্বরে হাসতে লাগলো…..!

কালো গরুটাকে চেতনার তকমা দিয়ে হত্যা করা হয়েছে! সাদা গরুটার মামলা দিয়ে নি:শ্বেস করা হবে। লাল গরুটা এখন ক্ষমতা উপভোগ করছে! নেকড়ের সাথে এখন তার মধুচন্দ্রিমা বন্ধুত্ব চলছে……(অসমাপ্ত)

লেখকঃ ওয়াহিদ ফারুকী ,সাংবাদিক ও রোটারিয়্যান ।

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন





ব্রেকিং নিউজ