শিশু বাল্য বিবাহ বাড়ছে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে

প্রকাশিত: ২৭ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১১:১৯:০৫ || পরিবর্তিত: ২৭ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১১:১৯:০৫

রোহিঙ্গাদের মধ্যে বাল্য বিয়ের প্রচলনের কারণে বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে তার পরিধি বাড়ছে ব্যাপকহারে। কারণ হিসেবে অভাব আর নিরাপত্তাহীনতার দোহাই দিচ্ছেন রোহিঙ্গা কমিউনিটির প্রতিনিধিরা। আর চিকিৎসকরা বলছেন, অল্প বয়সে গর্ভধারণের কারণে রোহিঙ্গা কিশোরীদের স্বাস্থ্যঝুঁকির পাশাপাশি বাড়ছে জনসংখ্যার ঘনত্ব। তবে বাল্যবিবাহ রোধে ক্যাম্পগুলোতে সচেতনতা বাড়ানোসহ বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।    

 ১৩ বছরের মুবিনা আকতার ও নুর কায়দা। চোখের সামনেই নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে তাদের বাবা মাকে। এর কিছুদিন পর পালিয়ে আসে বাংলাদেশে। কিন্তু বাবা-মা ছাড়া তাদেরকে দেখাশোনার তেমন কেউ ছিলনা। তাই অল্প বয়সে বিয়ে দিয়ে দেন তাদের দায়িত্ব থাকা খতিজা বেগম।

মুবিনা ও নুর কায়দার মতো অনেক রোহিঙ্গা কিশোরীর অল্পবয়সে বিয়ে হচ্ছে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে আশ্রয় নেয়া ক্যাম্পগুলোতে। মানবিক বিপর্যয়, খাদ্য অভাব ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে অল্পবয়সে বিয়ে হচ্ছে বলে দাবি রোহিঙ্গা প্রতিনিধির।

কুতুপালং ক্যাম্পের রোহিঙ্গা প্রতিনিধি নুরুল ইসলাম জানান, '১২-১৪ বছরের মেয়েদের বিয়ে হয়ে যাই কি কারণে অভাবের কারণে।'

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অল্পবয়সী মেয়েদের গর্ভধারণ নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন বলে জানালেন আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার এই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)'র স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. রুমানা ইসলাম জানান, ' যখন তারা গর্ভবতী হয়, তখন তাদের বাচ্চা অপুষ্টিতে ভোগে। এবং অনেক সময় আগেই বাচ্চা ডেলিভারি হয়ে যাই।'

উপজেলা প্রশাসনের এ কর্মকর্তা জানালেন, বাল্যবিবাহসহ অন্যান্য সামাজিক অপরাধ রোধে ক্যাম্পগুলোতে কাজ করছে প্রশাসন।

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নিকারুজ্জামান জানান, 'ওদের বাল্য বিবাহ ও বিভিন্ন অপরাধ কার্যক্রম ঠেকাতে আমাদের ৫টি পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে বাল্যবিবাহ কমাতে হলে সচেতনতা সৃষ্টিতে দেশি-বিদেশি এনজিও ও সরকারের গুরুত্ব দিতে হবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রজন্মনিউজ২৪.কম/মাসফি

 

 

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ