মানসম্পন্ন কনটেন্ট বাড়ানোর পরামর্শ

প্রকাশিত: ২৯ এপ্রিল, ২০১৬ ০২:৪১:৫১

সবাইকে ইন্টারনেট-সেবার আওতায় নিয়ে আসতে পারলে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বেড়ে যাবে। কিন্তু এটা করতে গেলে ইন্টারনেট মানুষের জীবনের জন্য কতটা প্রয়োজনীয়, সেটা মানুষকে বোঝাতে হবে। এর পাশাপাশি ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে যেসব সমস্যা রয়েছে সেগুলোর সমাধান করতে হবে। এই লক্ষে মানসম্পন্ন কনটেন্ট বাড়াতে হবে। সর্বোপরি ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। আজ শনিবার রাজধানীতে দুটি আলাদা অনুষ্ঠানে এসব মন্তব্য করেছেন বক্তারা।


সবার জন্য ইন্টারনেট প্রযুক্তির মাধ্যমে কীভাবে সমাজের ক্ষমতায়ন সম্ভব, সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা এবং মতামত পেতে দেশের শীর্ষস্থানীয় মোবাইল কোম্পানি গ্রামীণফোন এবং টেলিনর গ্রুপ আজ শনিবার রাজধানীতে দুটি আলাদা আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

সকালে ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টার কার্যালয়ে গোলটেবিল বৈঠকে টেলিনর ও গ্রামীণফোনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি অংশ নেন দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বিশেষজ্ঞ, তথ্য প্রযুক্তিবিষয়ক আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা। বিকেলে রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত হয় প্যানেল আলোচনা।

আলোচনায় ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছেন বক্তারা। একই সঙ্গে ইন্টারনেট জনপ্রিয় করতে মানসম্পন্ন বাংলা কনটেন্ট বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তাঁরা।
ডেইলি স্টার-এর সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, সবার জন্য ইন্টারনেট-সেবা নিশ্চিত করতে শহুরে আর গ্রামীণ জনগণের মধ্যে প্রযুক্তিগত দূরত্ব কমিয়ে আনতে হবে। সহজে সবার ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তি এখন বাংলাদেশের মানুষের চাহিদা বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিবেক সুদ বলেন, মুঠোফোন এখন শুধু কথা বলার জন্য নয়, মোবাইল মানে স্বাধীনতা এবং জীবনযাত্রাকে আরও উন্নত করার সুযোগ। সবার মাঝে ইন্টারনেট ছড়িয়ে দেওয়া মানে নতুন নতুন ব্যবসার সুযোগ তৈরির মাধ্যমে জিডিপিতে অবদান রাখার সুযোগ। এরই মধ্যে মুঠোফোন দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে বড় ভূমিকা রেখেছে।

বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সভাপতি, তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ মোস্তফা জব্বার বলেন, সবার কাছে ইন্টারনেট-সেবা পৌঁছে দিতে হলে দেশের প্রতিটি ইঞ্চি নেটওয়ার্কের মধ্যে নিয়ে আসতে হবে। তিনি মনে করেন সরকার, অপারেটর এবং মোবাইল সেট প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর আচরণ সবার জন্য ইন্টারনেটের প্রকল্পের জন্য সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) সেক্রেটারি জেনারেল রাসেল টি আহমেদ মনে করেন, ইন্টারনেট-সেবার ক্ষেত্রে দাম একটি প্রধান বিষয়। এখনো ইন্টারনেট সবার কাছে অপরিহার্য হিসেবে জায়গা করে নিতে পারেনি। ইন্টারনেট এখনো অনেকের কাছে শুধুই ফেসবুক বা অন্য সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহূত হচ্ছে।

উইকিমিডিয়া বাংলাদেশের সভাপতি মুনির হাসান বলেন, ইন্টারনেট তখনই মানুষের কাছে অপরিহার্য হবে, যখন মানুষের সব প্রয়োজন মেটাতে পারবে। মানুষের চাহিদা এবং প্রয়োজন মাথায় রেখে কনটেন্ট তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

অপেরা সফটওয়্যার এশিয়ার মার্কেটিং ডিরেক্টর এহতেরাম উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশে ইন্টারনেট প্যাকেজগুলো অনেকটাই জটিল। এগুলো সবার জন্য সহজবোধ্য করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক্সেস টু ইনফরমেশন প্রকল্পের পলিসি অ্যাডভাইজার আনির চৌধুরী বলেন, মানুষ এখন চায় কম দামে উচ্চগতির ইন্টারনেট। পাশাপাশি মানুষের চাহিদা নির্ভরযোগ্য প্রযুক্তি। এটা নিশ্চিত করতে না পারলে মানুষের আগ্রহ থাকবে না।

বেসিসের সভাপতি শামীম আহসান মনে করেন, ২০১৪ সাল হবে ইন্টারনেট বিপ্লবের বছর। আগামী ৫ বছরের জন্য বেসিসের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরে ১০০ কোটি ডলার রপ্তানি, তথ্য প্রযুক্তিতে ১০ লাখ পেশাদার জনশক্তি তৈরি এবং প্রতিবছর এক কোটি মানুষকে ইন্টারনেট ব্যবহারের আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি জিডিপিতে সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তি খাত থেকে ১ শতাংশ অবদান রাখার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বেসিস।

জিপি আইটির প্রধান নির্বাহী রায়হান শামসী বলেন, ব্যাংকে যাওয়া কিংবা বিদ্যুতের বিল দিতে যাওয়া ঝামেলার একটি কাজ। কেউ যদি ইন্টারনেটের মাধ্যমে এটি করতে পারেন, তাহলে যাতায়াত ভাড়া ও সময় দুটোই বেঁচে যাবে। তিনি তখন বুঝতে পারবেন ইন্টারনেট তাঁর জন্য কতটা প্রয়োজনীয়।

অনুষ্ঠান দুটিতে আরও বক্তব্য দেন ডেইলি স্টার-এর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক সালেহ উদ্দিন আহমেদ, টেলিনরের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট (করপোরেট অ্যাফেয়ার্স-এশিয়া অঞ্চল) হাকন ব্রুসেট জেল, সিম্ফনি মোবাইলের প্রধান নির্বাহী আমিনুর রশীদ, বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির নির্বাহী পরিচালক আশফাক হোসেন, এম এ মোবিন খান, নেসার মাকসুদ খান, আসিফ সালেহ প্রমুখ।

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন