এক দশকে এত কম দামে মসুর ডাল বেচাকেনা হয়নি

প্রকাশিত: ১২ নভেম্বর, ২০১৭ ০৩:২৭:৪৪

বিদেশ থেকে আমদানি করা মসুর ডালের দাম এখন সবচেয়ে কম। ব্যবসায়ীদের হিসাবে, এক দশকে এত কম দামে মসুর ডাল বেচাকেনা হয়নি। পাইকারি বাজারে দাম কমায় এখন খুচরা বাজারেও কেজিপ্রতি ৬০ টাকা দামে মোটা মসুর ডাল পাওয়া যাচ্ছে। বাজারে যখন প্রায় সব পণ্যের চড়া দাম, সেখানে মসুর ডাল ভোক্তাদের কিছুটা হলেও স্বস্তি দিচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে এক বছর আগে প্রতি টন মসুরের ডাল বিক্রি হতো ১ হাজার ১০০ ডলারে। এখন সেখানে ৪৮০ থেকে ৫০০ ডলারে মসুর ডাল পাওয়া যাচ্ছে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে আন্তর্জাতিক বাজারে মসুর ডালের দাম কমে প্রায় অর্ধেক হয়ে গেছে।

আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান বিএসএম গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল বশর চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, গত এক দশকে ডালের দাম এত কমেনি। খুব শিগগির ডালের বাজার চড়া হবে না।

কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানি করা বড় দানার মসুর ডাল পাইকারি বাজারে সর্বনিম্ন ৪৮ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। আর আমদানি করা কিছুটা উন্নত মানের মসুর ডাল পাইকারিতে ৫০-৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগেও এই দাম ছিল ৫০ থেকে ৫৮ টাকা। এদিকে আমদানি করা মসুর ডালের দাম কমায় বাজারে দেশীয় মসুর ডালের দামও কমেছে। কেজিপ্রতি ৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

চট্টগ্রাম ডাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এস এম মহিউদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, সব ধরনের ডালের দাম এখন তুলনামূলক কম। তবে সবচেয়ে বেশি কমেছে আমদানি করা মসুর ডালের দাম। কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানি করা মসুর ডালের দাম মানভেদে ৪৮ থেকে ৫৫ টাকায় আর দেশীয় মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ৮৫ টাকায়।

সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে, ঢাকার খুচরা বাজারে এখন বড় দানা আকারের মসুর ডাল কেজিপ্রতি ৬০ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগে এই দর ছিল কেজিপ্রতি ৬৫ টাকা। এক বছর আগে একই রকম মসুর ডালের দাম ছিল ৯০ টাকা। এই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে মসুর ডালের দাম কমেছে ৩৩ শতাংশ।

রেয়াজউদ্দিন বাজারের খুচরা বিক্রেতা মো. ইউনুছ প্রথম আলোকে বলেন, মোটা আকারের মসুর ডাল এখন কেজিপ্রতি ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তিন-চার সপ্তাহের ব্যবধানে এসব মসুর ডালের দাম কেজিপ্রতি ১০ টাকা কমেছে।

চাহিদার তুলনায় মসুর ডালের উৎপাদন কম হওয়ায় স্থানীয় চাহিদা আমদানি করে মেটাতে হয়। ২০১০-১১ সালে মসুর ডালের আমদানির ৩১ শতাংশ হতো নেপাল থেকে। এখন তা কমে ৩-৪ শতাংশে নেমেছে।

বন্দরের হিসাবে, গত অর্থবছরে মসুর ডাল আমদানি হয় ৩ লাখ ৮৩ হাজার ৮১৪ টন; যা এর আগের অর্থবছরের (২০১৫-১৬) চেয়ে ৯০ শতাংশ বেশি। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে মসুর ডাল আমদানি হয়েছে ৬০ হাজার ৪১৭ টন। আমদানি করা মসুর ডালের সিংহভাগ বা ৯৭ শতাংশই আসে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে।

বন্দর ও কাস্টমসের তথ্যে দেখা যায়, বন্দর দিয়ে মসুর ডাল আসছে ১৫টি দেশ থেকে। গত অর্থবছরে আমদানি হওয়া মসুর ডালের সাড়ে ৬১ শতাংশই আনা হয়েছে অস্ট্রেলিয়া থেকে। এরপর কানাডা থেকে আমদানি হয় ৩৩ শতাংশ। অর্থাৎ কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানি হচ্ছে ৯৪ শতাংশ মসুর ডাল।

ঢাকার কারওয়ান বাজারে এখন আমদানি করা বড় দানার মসুর ডাল ৬৫–৭০ টাকা, মাঝারি দানা ৭৫–৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। দেশি মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ১০০ থেকে ১১০ টাকা দরে। বিক্রেতারা জানান, সব ধরনের মসুর ডালের দামই কমেছে।

প্রজন্মনিউজ২৪.কম/এ এ মাসুদ

 

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন