শুভ জন্মদিন স্যার ফজলে হাসান অাবেদ

প্রকাশিত: ২৯ এপ্রিল, ২০১৬ ০২:০৫:৫৬

প্রশ্ন: আপনি ব্র্যাক নিয়ে যে বিশাল কাজ করেছেন, তা আরও দ্রুততর হতে পারত, সরাসরি রাজনীতিতে যেতেন বা দল করে এগিয়ে যেতেন। সেখান থেকে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে নীতিনির্ধারণ, নীতি বাস্তবায়ন এবং ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত দেখভাল করা ইত্যাদি খুব সহজে করতে পারতেন। সে পথে গেলেন না কেন?

উত্তর: কিন্তু আমি মনে করি, আমি যা করছি, সেটাই আমার কাজ। এতে আমি অনেক সাফল্য পেয়েছি। রাজনীতির মধ্যে গিয়ে এ কাজগুলো করতে পারতাম কি না জানি না।

প্রশ্ন: শেষ বিচারে তো সরকারকে দরকার কাজ করতে গেলে। সরকারের নীতির বাইরে গিয়ে তো কাজ করা সম্ভব নয়। সেখানে সরকারের গুরুত্ব তো থেকেই যাচ্ছে।

উত্তর: কাজের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সরকারের দায়িত্বই প্রধান। তারপরও বিভিন্ন সময়ে সরকার আমাদের যৌথভাবে যতটুকু কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছে, সে জন্য তাদের অনেক ধন্যবাদ।

প্রশ্ন: আমি যদি বলি, আপনি দেশের অগ্রগতির জন্য যে কাজটি করলেন, সেটা সামাজিক ও অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক কাজও বটে।

উত্তর: সরকারের যে কাজটা করার কথা ছিল, সে কাজটিতে আমরা সহযোগিতা করলাম। আমার তৃপ্তি সেটাই, আমি তো বাংলাদেশে কিছুটা পরিবর্তন আনতে পেরেছি। এই কাজটা অবশ্যই রাজনীতিবিবর্জিত নয়।

ব্র্যাক সেন্টারের নিজ দপ্তরে স্যার ফজলে হাসান আবেদ। ছবি: জিয়া ইসলামপ্রশ্ন: স্বাধীনতার পর ৪৫ বছর তো হয়ে গেল। আমরা স্বৈরতন্ত্র দেখলাম, গণতন্ত্র দেখলাম, নিয়ন্ত্রিত গণতন্ত্র দেখলাম। প্রতিদিন হত্যা-খুন-ধর্ষণ-দুর্নীতি তো আছেই। অন্যদিকে দেশ হিসেবে, রাষ্ট্র হিসেবে অগ্রগতিও হচ্ছে—একটা বৈপরীত্য লক্ষ করা যাচ্ছে। এসব নিয়ে আপনার চিন্তা কী?

উত্তর: আমরা গণতন্ত্রের কথা বলি। কিন্তু মানুষের ক্ষমতায়ন না হলে তো গণতন্ত্র হবে না, গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে না। সুতরাং মানুষের ক্ষমতায়নের ওপর জোর দিতে হবে। এই কাজটা তো কেউ করে না। অনেক রাজনীতিবিদও তো করেন না, তাঁরা নিজেদের ক্ষমতায়ন করেন। আমাদের কাজের ধারা হলো নিজেদের ক্ষমতায়ন না করে জনগণের ক্ষমতায়ন করা। আমরা যদি সত্যিকারের সাফল্য পেতে চাই, তাহলে মানুষ এ কথা ভাববে যে আমার ক্ষমতা আছে, আমিই আমার দেশের নিয়ন্তা, আমার ভোটটা আমি কাজে লাগাব। তাহলে সমাজের, দেশের, রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক ভিত্তিটা মজবুত হবে।

প্রশ্ন: বৃহত্তর অর্থে আপনার কাজটা সমাজকে এগিয়ে নেওয়ার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রে পরিবর্তন আনা, মানুষের চিন্তাভাবনার পরিবর্তন আনা। সেটাও একটা রাজনৈতিক কাজ।

উত্তর: ঠিকই বলেছেন। এক অর্থে তো রাজনৈতিক কাজই। কারণ, কাজগুলো তো সমাজ, দেশ ও রাজনীতির বাইরের কিছু নয়।

প্রশ্ন: আমরা বলি, বাংলাদেশ গানের দেশ, কবিতার দেশ, শান্তির দেশ। কিন্তু বাস্তবে কী হচ্ছে? সংঘাত, হানাহানি আর মৃত্যুর সংখ্যা তো বাড়ছেই।

উত্তর: আসলে যে বাংলাদেশকে আমরা চিনতাম, সেই বাংলাদেশ তো এখন নেই। আমাদের সমাজের ভেতরে অনেক ক্ষতিকর ও ধ্বংসাত্মক প্রকৃতির লোক ঢুকে গেছে। এ ছাড়া রাজনৈতিক দলগুলো তরুণদের হাতে, বিশেষ করে ছাত্রনেতা ও কর্মীদের হাতে তাদের স্বার্থে অস্ত্র তুলে দিয়েছে। তারা কোনো না কোনোভাবে ক্ষমতাশালী লোকজনের কাছ থেকে পৃষ্ঠপোষকতা পাচ্ছে। অন্যদিকে দুর্নীতি, সন্ত্রাস বা নির্যাতনকে প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে। এভাবেই এসবের বিস্তৃতি ঘটছে।

প্রশ্ন: এরপর জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবেও উগ্রতা, সহিংসতা বেড়ে গেছে।

উত্তর: এটা তো আগে ছিল না। বাংলাদেশে কিন্তু এটা হওয়ার কথা ছিল না। পাকিস্তানে হয়েছে। অবশ্য এই উগ্রতা পাকিস্তানের তুলনায় বাংলাদেশে কম। তবে এটাকে আরও কমাতে হবে।

এ সম্পর্কিত খবর

আবৃত্তিশিল্পী কামরুল হাসান মঞ্জু আর নেই

কুষ্টিয়ায় চাঁদাবাজি মামলায় দুই যুবলীগ নেতা আটক

‘ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ালে ধ্বংস হয়ে যাবে সৌদি ও আবুধাবি’

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ স্থানান্তরের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ

সাবেক শিক্ষামন্ত্রীর গণ সাক্ষাত

বশোমুরবিপ্রবি সাংবাদিক জিনিয়াকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কার ও হয়রানির ঘটনায় ঢাকসাস'র মনববন্ধন

বিএনপি নেতা দুদুর নিজ বাড়িতে হামলা

ছাত্রদলের সভাপতি খোকন, সাধারণ সম্পাদক শ্যামল

ঢাবিতে দুর্নীতি বিরোধী কর্মসূচিতে ছাত্রলীগের হামলা

ফাইনালে উঠার জন্য বন্দরনগরীতে জিম্বাবুয়ের মুখামুখী টাইগাররা

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ