ইরফান খান কেন অসাধারণ!

প্রকাশিত: ২৯ এপ্রিল, ২০১৬ ০১:৩১:৫৫

বলিউড থেকে হলিউড। বিল্লু থেকে জুরাসিক ওয়ার্ল্ড। অস্কার আসর মাত করা লাইফ অব পাই, স্লামডগ মিলেয়নিয়ার অথবা নানা চলচ্চিত্র উৎসবে শোরগোল ফেলে দেওয়া ছবি দ্য লাঞ্চবক্স। ইরফান খান তাঁর সময়ের সেরা অভিনেতাদের একজন। সেই অভিনেতা ঢাকায় আসছেন! তাও আবার স্রেফ চেহারা দেখানো নয়। শাহরুখ বা সালমান খানের মতো এক পশলা নাচ-গান দেখিয়ে রাতারাতি ফিরে যাওয়া নয়। দুর্দান্ত এই অভিনেতা ঢাকায় আসছেন রীতিমতো পুরো দৈর্ঘ্যের কাহিনিচিত্রে অভিনয় করতে! বাংলাদেশের সিনেমার জন্য একটা বড় ঘটনা তো বটেই।

সে কারণেই গতকাল শুক্রবার রাতে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ডুব ছবির মহরত ঘিরে সাংবাদিকদের দারুণ আগ্রহ। ইরফান খান দর্শনের আশায় রাজধানীর এক পাঁচ তারকা হোটেলে দেখা মিলল সেই সব লোকজনেরও, যাঁরা ইতিপূর্বে বাংলাদেশের কোনো ছবির মহরতে হাজির থেকেছেন বলে সহজে মনে করতে পারবেন না।

তিশা, রোকেয়া প্রাচী আর পার্নো মিত্ররা ততক্ষণে চলে এসেছেন। নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী সবার সঙ্গে কুশল বিনিময়ে ব্যস্ত। রাত আটটা মতো বাজে। অবশেষে ইরফান দেখা দিলেন। সাদা শার্ট, কানে দুল। চুলটা পেছন করে আঁচড়ানো। চোখের নিচে ক্লান্তির ছাপ দৃশ্যমান। কিন্তু মুখের অভিব্যক্তিতে আর যা হোক আন্তরিকতার অভাব নেই। ক্যামেরাম্যানরা হন্যে হয়ে তাঁর পিছু নিলেন। সাংবাদিক থেকে কেউ কেউ মুহূর্তে বনে গেলেন সেলফি শিকারিতে।


ইরফান বসলেন একদম কোনার দিকের একটা চেয়ারে। কোনো রকম বড় ‘তারকা সুলভ ভাব’ না দেখিয়ে খোশ গল্পে মাতলেন পাশে বসা সহঅভিনেত্রী তিশা আর রোকেয়া প্রাচীর সঙ্গে। নিয়মমাফিক দুটো বক্তৃতার পর উপস্থাপক মঞ্চ থেকে ঘোষণা করলেন ইরফান খানের নাম।

সিনেমার পর্দা যেমন তাঁর উপস্থিতিতে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে বাস্তবেও ঘটল ঠিক তাই। তিনি বাংলা শিখছেন সেই কথা জানিয়েছিলেন আগেই। কাল সেটা নিশ্চিত করলেন আরও একবার। বাংলা বা ইংরেজিতে সাংবাদিকদের সব প্রশ্নের উত্তর দিলেন সমান ধৈর্য আর আগ্রহ নিয়ে।

অকপটে জানালেন, মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর পিঁপড়াবিদ্যা দেখে হাসতে হাসতে গড়িয়ে পড়ছিলেন তিনি। মানলেন, বাংলাদেশের ছবি তেমন দেখা হয় না। কিন্তু রবীন্দ্র সংগীতের ভক্ত তিনি। পছন্দের সংগীত শিল্পীর তালিকায় আছেন বাংলাদেশের অর্ণব। বিনয়ের সঙ্গে জানালেন, ছবির কো-প্রডিওসার হলেও এই ছবিতে অভিনয়ের সময় পুরোপুরিই পরিচালকের ‘বাধ্য’ থাকতে চান।
খোদ শাহরুখ খানের সঙ্গে তাঁর তুলনাটাকেও সহজ করে নিলেন খুব হালকা রসিকতায়। সব মিলিয়ে পুরো ঘণ্টা দুই, ইরফান হাসলেন, হাসালেন আর বুঝিয়ে দিলেন পূর্ব থেকে পাশ্চাত্য কেন তাঁর জয়জয়কার।

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন





ব্রেকিং নিউজ