কবে শেষ হবে ব্যাচেলরদের  বাসা সমস্যা!

প্রকাশিত: ২২ জুলাই, ২০১৭ ১১:৪৯:৫৭

হায়রে ব্যাচেলর জীবন! কবে হবে এই জীবনের অবসান। তাই বলছি কিছু কথা আমরা ব্যাচেলর হয়ে কি অপরাধ করলাম। বাড়িওয়ালা কি কখনো ব্যাচেলর ছিল না? ব্যাচেলর জীবনে বাড়ি ভাড়া নিতে গিয়ে সমস্যার সম্মুখীন হয় নি, এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া দুস্কর। যদি বাড়িওয়ালা শুনে ছেলে তার গায়ে আগুন লেগে যায়।

এখন লাগছে কেন? তার আছে কিছু কারন! বাড়িওয়ালা সব সময় মনে মনে ভাবতে থাকেন, এই বুঝি তার ভাড়াটিয়া ছেলেটির  সঙ্গে তার মেয়েটির প্রেম হয়ে গেল! এই বুঝি ছেলেটি তার মেয়েটিকে নিয়ে ভেগে গেল।কখনো যে এমন হয় না, বা হওয়ার আশঙ্কা নেই সে কথা বলছি না। তবে না হওয়ার পরিমাণই বেশি। কিন্তু তার মেয়ে যখন রাত বারটার পর বাসায় আসে। তখন কি তিনি বলেন তুমি এতো রাতে বাসায় ফিরছো কেন? যদিও দুই একজন বলে না বলার সংখ্যাই কম। তার মেয়ে কার সাথে ঘুরছে কার সাথে ছিল বাহিরে সেটাও চিন্তা করা দরকার ছিল।

আমরা ব্যাচেলর এই গুলো দেখতে দেখতে অভ্যস্থ। শুধু ব্যাচেলর ভাড়া দিলে তার মেয়ে প্রেম করবে। আর না হয় তার মেয়ে প্রেম করবে না ভাগবে না। সেটাও বাড়িওয়ালাকে চিন্তা করা দরকার। বাড়িওয়ালাদের বুঝতে হবে, নিজের পরিবার পরিজন প্রিয়জন ছেড়ে ব্যাচেলর ছেলেগুলো রাজধানীতে আসে পড়াশুনা করতে প্রেম করতে নয়। প্রেম করাই যদি জীবনের  উদ্দেশ্য হয়, তবে তা নিজ এলাকা থেকেই শুরু করা যায়। সে জন্য সবাইকে ছেড়ে এতটা দুরে এসে বাড়িওয়ালাদের চক্ষুশূল হওয়ার দরকার পড়ে না। এতক্ষণ যেভাবে লিখে গেলাম, বাস্তবতা কিন্তু এতটা হালকা নয়।

ঢাকা শহরে ব্যাচেলর এক মহা সমস্যার নাম। বড়িওয়ালারা ব্যাচেলরদের কাছ থেকে ভাড়া বাড়িয়ে নেয়, যেমনটা ফ্যামেলি থেকে নেয় না। এখানে ব্যাচেলররা যেমন বাড়ি খুঁজতে গিয়ে হয়রান হয়। বাড়িওয়ালারা তেমনি ব্যাচেলরদের কাছে বাড়িভাড়া দিয়ে অনেক সময় হয়রানিতে পড়েন। তবে এই সমস্যার সংখ্যা কম কিছু সংখ্যক মানুষ এইসব ঘটনা ঘটিয়ে অন্যদেরকে সমস্যার মধ্যে রাখেন গত বছর ঘটে যাওয়া গুলশান ট্র্যাজেডি ও কল্যানপুরে জঙ্গিবিরোধী অভিযানের এবং সরাদেশে জঙ্গি কার্যক্রমের ঘটনার পর থেকে বাড়িওয়ালাদের সমস্ত আক্ষেপ ও সন্দেহ এসে পড়েছে ব্যাচেলর ভাড়াটিয়াদের ওপর।

অনেক বাড়িতে ব্যাচেলর ভাড়াটিয়াদের বাড়ি ছেড়ে দেয়ার নোটিশ দেওয়া হয়ে গেছে। কারণ ভাড়াটিয়া জঙ্গি হলে যে বাড়িওয়ালারও নিস্তার নেই। আর যদিও ভাড়া দেওয়া হয়, তাহলে ভাড়াটিয়ার প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে ভাড়া দেয়। আর এই তথ্য যদি বাড়িওয়ালা নিয়ে থানায় তা জমা দিয়ে থাকেন, তবে  এই ঝমেলা সহজেই মুক্তি পাওয়া যায়। কিন্তু এটা যে বাংলাদেশ এখানে প্রায় সব মানুষেই নিজ নিজ ক্ষেত্রে সচেতন নন। এখানে ভাড়াটিয়া অলস। বাড়িওয়ালারা লোভী আর পুলিশেরা সুযোগ সন্ধানী। এদের আল্প একটু অবহেলার দরুণ ভুক্তভুগী হচ্ছেন হাজারো মধ্যবিত্ত নিরপরাধ মানুষ।

অধরা থেকে যাচ্ছে আসল অপরাধী। ফলশ্রুতিতে আরও বড় অপরাধের সুয়োগ পাচ্ছে তারা। একটা দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর কয়েকদিন খুব হইচই হয়। তারপর অবস্থা অগের মত। কিন্তু কথা হচ্ছে এভাবে আর কতদিন? আমরা সাধারণ মানুষ যাবো কোথায়? এভাবে চলতে থাকলে মনে হচ্ছে সামনের দিকে আর ঢাকায় ব্যাচেলররা বাসা ভাড়া পবেনা। তাহলে তারা যাবে কোথায়? তারা কি পড়ালেখা ছেড়েদিয়ে বাড়ি চলে যাবে! এটাই এখন দেখার  বিষয়। একজন ছেলে যদি জীবিকার তাগিদে রাজধানীতে আসে তবে তাকে একটি নিরাপদ আবাস দিতে না পারার ব্যার্থতা আসলে কার?

দেশ স্বাধীন এবং আমাদের সরকার গণতান্ত্রিক তবে কেন ব্যচেলর ছেলেরা নিরাপধ একটি আশ্রয় পাবে না? এই দেশ কি তাদেরও দেশ নয়? অপরাধ না করেও তারা অপরাধী হয়ে গেছে। মূল অপরাধীদের চিহ্নিত করা এবং নিধন করা দেশের আইনশৃঙ্খলা বহিনীর দায়িত্ব। তাতে যদি তারা ব্যর্থ হয়, সেই দায়ভার কেন ব্যাচেলররা নিবে? উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপিয়ে সাময়িক মুক্তি হয়তো মিলবে, কিন্তু সমাধান আসবেনা।

ব্যাচেলররা এভাবে সন্দেহ, অসমনের শিকার হলে পরবর্তি সময় তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কাই বেশি। দেশের টগবগে এসব নিরপরাধ তরুণদের নিরাপদ নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কাই বেশি।বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া একজন ছাত্র বলেন, আমরা বলবো মাননীয় প্রাধানমন্ত্রী আপনি সারা বাংলাদেশের প্রধান ও অভিবাবক আপনি আমাদের দিকে তাকান। আপনি একটা ব্যবস্থা নেন তাহলে হয়তো আমরা ঢাকার শহরে থাকতে পারবো। দেশের টগবগে এসব নিরাপরাধ তরুনদের নিরাপদ আবাসের নিশ্চয়তা দেওয়া হোক। তারাই একদিন নিরাপদ একটি সোনার দেশ গড়ে তুলবে।                   

প্রজন্মনিউজ২৪/নাছির আহমেদ পাটোয়ারী

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ