শাহবাগে ছাত্র - পুশিষ সংঘর্ষ

সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে উত্তাল শাহবাগ  

প্রকাশিত: ২০ জুলাই, ২০১৭ ০৪:৫৮:২২ || পরিবর্তিত: ২০ জুলাই, ২০১৭ ০৪:৫৮:২২

কেএম লুৎফর রহমান : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সাত কলেজের পরীক্ষা সঠিক সময়ে নেয়ার জন্য ভূক্তভোগী ছাত্ররা শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের সামনে অবস্থান করে । এতে সহস্রাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহন করে বিক্ষোপ করতে থাকে তাদের দাবী আদায় করার জন্য ।

বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় কলেজের শিক্ষার্থীরা শাহবাগে অবস্থান নেয়। এ সময় পুলিশ তাদেরকে রাস্তায় দাঁড়াতে না দিলে শিক্ষার্থীরা ফুটপাতে দাঁড়িয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে । এক সময় হঠাৎ করে পুলিশ কোন ধরণের উস্কানী ছারাই আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর হামলা করে ।

এ সময় পুলিশ গুলি, টিয়ারশেল, বুলেট ছুড়তে থাকে এতে কয়েকজন আহত হয় এবং কয়েক জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ । আহত দেরকে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে ।

এতে করে ছাত্ররা তাদের দাবী আদায়ের জন্য রাস্তায় নেবে আসলে সিক্ষকের মধ্যস্ততায় ঢাকা কলেজে ফিরিয়ে আনা হয় । ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষের সামনে শিক্ষার্থীরা অবস্থান করে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে ।

এক পর্যায়ে ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ মোয়াজ্জেম হোসেন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, তোমাদের সকল সমস্যার সমাধান আমরা সঠিক সময়ে করব । পরীক্ষা সঠিক সময়ে নেব এতে কোন সমস্যা নেই ।

চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার সাতটি সরকারি কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হয়। কলেজগুলো হচ্ছে, ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি কলেজ, মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজ ও সরকারি তিতুমীর কলেজ।

এই সাত কলেজের প্রত্যেকটিতে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ৩০টি বিষয়ে পড়ানো হয়। প্রথম বর্ষ থেকে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দুই লক্ষাধিক। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কলেজগুলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিভুক্ত হওয়ার পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পরীক্ষা সংক্রান্ত কোন নীতিমালা তৈরি করতে পারেনি কলেজ কর্তৃপক্ষ।

যার ফলে পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে । তারা এখন জানতে পারেনি , তাদের পরীক্ষা কবে হবে, একাডেমিক সিলেবাস কী হবে, পরীক্ষাপদ্ধতি কেমন হবে, প্রশ্নের ধরণই বা কেমন হবে বা কেমন হবে প্রশ্নের মানবন্টন? জানা যায়,

২০১৪-২০১৫ শিক্ষাবর্ষের দ্বিতীয় বর্ষের এবং ২০১১-২০১২ শিক্ষাবর্ষের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীদের লিখিত পরীক্ষা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ৬-৭ মাস আগে অনুষ্ঠিত হলেও সাতটি কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হওয়ায় এসব কলেজের সব বিভাগের শিক্ষার্থীদের ভাইভা/ব্যবহারিক পরীক্ষা এখনো পর্যন্ত সম্পন্ন হয়নি।

যেখানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা অন্যান্য কলেজের এই বর্ষের ফলাফল পর্যন্ত ইতোমধ্যে প্রকাশ হয়েছে।এছাড়া ২০১৩-২০১৪ শিক্ষাবর্ষের তৃতীয় বর্ষের এবং ২০১৩-২০১৪ শিক্ষাবর্ষের মাস্টার্স শেষ পর্বের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফরম পূরণ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ৬-৭ মাস আগে সম্পন্ন হলেও এখন পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে এসব পরীক্ষা গ্রহণের জন্য কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

অথচ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এসব পরীক্ষা কয়েক মাস আগেই শেষ হয়েছে। ২০১৪-২০১৫ শিক্ষাবর্ষের মাস্টার্স শেষ পর্বে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রকাশিত প্রথম মেধা তালিকা থেকে কলেজগুলো শিক্ষার্থী ভর্তি করলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হওয়ায় এসব কলেজে আবেদনকৃত প্রথম মেধা তালিকায় অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের দ্বিতীয় মেধা তালিকা প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি।

ফলে এসব কলেজে আবেদনকৃত প্রথম মেধা তালিকায় অনুত্তীর্ণ যেসব শিক্ষার্থী স্নাতকোত্তর শ্রেণিতে ভর্তি হতে পারেনি তারা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন অতিবাহিত করছে। শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন পোস্টার ও প্লে-কার্ড নিয়ে বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করেণ ।

এসময় শাহবাগে অবস্থান নেয়া শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগানের মাধ্যমে উত্তাল করে তোলে।একটি প্লে-কার্ডে লেখা রয়েছে, ‘সেশনজটের প্রহসন, করতে হবে নিরসন।’ আরেকটিতে লেখা আছে, ‘হইছে অনেক সময় ক্ষেপণ, শীঘ্রই করতে হবে দাবি পূরণ।

শিক্ষার্থীদের সাত দফা দাবি

১. অধিভুক্ত হওয়া কলেজসমূহের ব্যাপারে নীতিমালা প্রণয়ন এবং প্রকাশ (একাডেমিক সিলেবাস, পরীক্ষা পদ্ধতি, প্রশ্নের ধরণ, প্রশ্নের মানবন্টন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে কলেজসমূহের সম্পর্ক ইত্যাদি)।

২. সম্মান ২য় ও ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থীদের ভাইভা/ব্যবহারিক পরীক্ষা অতি অল্প সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করে দ্রুত সময়ের মধ্যে ফলাফল প্রকাশ করা।

৩. সম্মান তৃতীয় বর্ষের এবং মাস্টার্স শেষ পর্বের পরীক্ষা দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রহণ।

৪. ২০১৪-২০১৫ শিক্ষাবর্ষের মাস্টার্স শেষ পর্বের ভর্তি কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করা।

৫ ডিগ্রির আটকে থাকা সব বর্ষের পরীক্ষা দ্রুত সম্পন্ন করা।

৬. অধিভুক্ত কলেজসমূহের সব তথ্য সংবলিত একটি ওয়েবসাইট তৈরি।

৭. শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং সেশনজট নিরসনে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর যেসকল পুলিশ হামলা করেছে তাদের বিচার দাবি করেছে সাধারন শিক্ষার্থীরা । তারা বলেন,আমাদের দাবি মেনে না নিলে আমরা আর কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হব ।

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন





ব্রেকিং নিউজ